
ঈদগাঁও, নিজস্ব প্রতিনিধি নিজস্ব প্রতিনিধি
শিক্ষা-দীক্ষায় একসময় পিছিয়ে পড়া ঈদগাঁও জনপদকে যিনি জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করেছিলেন, সেই প্রজ্ঞাবান শিক্ষক, সমাজ সংস্কারক ও আলোকবর্তিকা আলহাজ্ব মাস্টার মোজাম্মেল হক ফরাজী স্যারের স্মৃতি আজও পুরো এলাকাবাসীর হৃদয়ে অমলিন। তিনি ঐতিহ্যবাহী ঈদগাঁও আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষক ছিলেন। অভিজাত জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করা সত্ত্বেও তাঁর মধ্যে কোন অহংকার বা হিংসা-বিদ্বেষ ছিল না; নিরহংকার ও সাদামাটা জীবনযাপনের মাধ্যমে তিনি অর্জন করেছিলেন দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বের মর্যাদা।দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি কেবল পাঠদানই করেননি, বরং পরম মমতায় গড়ে তুলেছেন শত শত সুনাগরিক। বিশেষ করে ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রে তাঁর প্রাঞ্জল ও নিখুঁত উপস্থাপনশৈলী আজও প্রবীণ ও নবীন শিক্ষার্থীদের মুখে মুখে ফেরে। তাঁর নিখুঁত ভঙ্গিতে শেখানো ইংরেজি ট্রান্সলেশনগুলো, যেমন “ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগী মারা গেল”—আজও যেন অনেকের কানে মধুর স্মৃতির মতো বাজে।শিক্ষকতার পাশাপাশি ঈদগাঁও এলাকার শিক্ষা বিস্তারে এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক অবকাঠামো গত উন্নয়নে তাঁর অবদান ছিল অনস্বীকার্য। তিনি ছিলেন একজন খাঁটি মানবতাবাদী ও সমাজসেবী। সমাজের গরিব, দুস্থ ও অসহায় মানুষের যেকোন প্রয়োজনে তিনি অভিভাবকের মতো পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর হাত ধরে শিক্ষা গ্রহণ করা অসংখ্য শিক্ষার্থী আজ জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে দেশও জাতির কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন।ব্যক্তিগত জীবনে তিনি পরম স্নেহশীল একজন ব্যক্তিত্ব ছিলেন। ২০২২ সালের ১৬ জুন তিনি আমাদের ছেড়ে অদেখা ভুবনে পাড়ি জমান। তিনি শারীরিকভাবে আমাদের মাঝে না থাকলেও, তাঁর রেখে যাওয়া নীতি-আদর্শ, সুশিক্ষা এবং অমর অবদান এই অঞ্চলে চির কাল শ্রদ্ধার সাথে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
